Ticker

6/recent/ticker-posts

ভুমিকম্পঃ জেগে উঠেছে মধুপুর-ভাওয়াল ফল্ট লাইন, তীব্র ঝুঁকিতে বাংলাদেশ

বিশেষ প্রতিবেদনঃ

বাংলাদেশের
মধুপুর-ভাওয়াল (Madhupur-Bhawal) ফল্ট বা ফল্ট লাইন জেগে উঠছে বলে সাম্প্রতিক ভূমিকম্প এবং ভূ-ভাগের গতি নিয়ে আলোচনা বেড়েছে, আর এর কারণে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী এই অঞ্চলের ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে। এমনিতেই বাংলাদেশের উপর সিলেট অঞ্চলের ভূমিকম্প সাব জোনের ঝুঁকি সব সময় বিদ্যমান রয়েছে এরই মাঝে নতুন করে মধুপুর-ভাওয়াল ফল্ট আবিস্কার হয়েছে।

মধুপুর-ভাওয়াল ফল্ট কি?

মধুপুর ফল্ট হল বাংলাদেশের একটি প্রধান ভূ-ফাটল/সিসমিক জোন, যা মধুপুর গড় এবং পরবর্তী ভূ-গঠনতাত্ত্বিক অঞ্চলে বিস্তৃত।এটি টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর ও ঢাকা সহ মধ্য এবং উত্তরের বিস্তৃত অঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে।

কেন মধুপুর-ভাওয়াল ফল্ট জেগে উঠছে বলা হচ্ছে?

সাম্প্রতিক ভূমিকম্প এবং শেক প্রদান ঘটছে — দেশের বিভিন্ন জায়গায় সামান্য ও মাঝারি কম্পন অনুভূত হয়েছে, যার ফলে এই ফল্ট লাইন আবার আলোচনায় এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন - ভূতাত্ত্বিকভাবে ফল্টের নিচে প্রচণ্ড চাপ জমা হতে পারে, এবং সময়ে-সময়ে বাড়ে। এটি ভবিষ্যতে বড় কম্পনের কারণ হতে পারে

ঝুঁকি কতটা গুরুতর?

এই ফল্ট থেকে ম্যাগনিচিউড 6.0–6.5 পর্যন্ত কম্পন ঘটলে আশেপাশের জেলা ও ঢাকা শহর বড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। গবেষণা বলে এটি 7.0–7.5 পর্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে সক্ষম ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর এমনকি এর আশপাশের এলাকায় এমন ভূমিকম্পের ক্ষতি বিশেষ উদ্বেগজনক। রাজধানীর বহু জায়গা নরম মাটিতে গড়া যা কম্পনকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

রাজউক এর একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, শুধুমাত্র ঢাকা শহরে ~৪০% ভবন ধসে যেতে পারে, এবং ৩০ লাখের বেশি মানুষ প্রাণহানির ঝুঁকিতে রয়েছে। এই দুর্যোগে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি কোটি ডলারের পরিমাপে হিসাব করা হয়েছে।

লাভল ভল্ট (Vault) জেগে ওঠা বা ভূমিকম্পের প্রাকৃতিক সংকেত কি?

ছোট-মাঝারি কম্পন (ফোরশক) বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বড় কম্পনের পূর্বাভাস হিসাবে বিবেচিত হতে পারে। ফল্ট লাইনের কাছে সাম্প্রতিক কম্পনের ঘটনা বহু জায়গায় অনুভূত হচ্ছে। এমন ভূ-জাগতিক পরিবর্তন ধীরে-ধীরে ঘটে এবং ছোট কম্পন সবসময় বড় কম্পনের নিশ্চয়তা দেয় না — তবে বিশেষজ্ঞগণ এটিকে ঝুঁকি সম্পর্কিত সতর্ক সংকেত হিসেবে ধরে নিচ্ছেন।

প্রস্তুতি এবং নিরাপত্তা

আমাদের বাংলাদেশের অনেক অঞ্চলে ভূমিকম্প প্রস্তুতি খুবই সীমিত। এর কারন হচ্ছে মানুষের অজ্ঞতা ও জনসচেতনতার অভাব। তবে বর্তমানে ভূমিকম্পের কিছু ঘটনার কারণে মানুষের মাঝে আস্তে আস্তে ভুমিকম্প সম্পর্কে বিস্তর ধারণা তৈরি হচ্ছে। যদিও সরকারীভাবে সবাইকে ভূমিকম্পের সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে।  কিছু অঞ্চলে ফায়ার সার্ভিস ও ভলান্টিয়ার ট্রেনিং বাড়ানো হচ্ছে। নিয়মিতভাবে ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণ ও কোড অনুসরণ করার জন্য সবাইকে বলা হচ্ছে। কেউ বিধিনিষেধ না মানলে তার উপর জরিমানাও আরোপ করা হচ্ছে।  

শেষ কথা

মধুপুর-ভাওয়াল ফল্ট বাংলাদেশের ভূমিকম্প-ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে — বিশেষ করে ঢাকা এবং কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলোতে. এটি এখনো সক্রিয় ফল্ট জোন হিসেবে বিবেচিত, এবং ভবিষ্যতে বড় ভূমিকম্প ঘটার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং নিরাপদ নির্মাণ ও প্রস্তুতি নিতে হবে।


এই সম্পর্কিত ভিডিও দেখুন -



Post a Comment

0 Comments